ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা এখনো নিজ নিজ অবস্থানে বহাল তবিয়তে রয়েছে, এমনকি তারা নিয়মিত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নও পাচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি রফিকুল ইসলাম খান। আজ শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসন আমলে যারা চরমভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছিলেন, তাদের বর্তমান অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনে প্রশাসনকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের দলীয়করণের সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্য চলাকালীন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের সূত্র উল্লেখ করে জামায়াতের এই এমপি বলেন, সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের মোট হত্যাকাণ্ডের অর্ধেক অপরাধের পেছনেই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন জড়িত রয়েছেন। যেখানে খোদ দলের মানুষ দ্বারাই নাগরিকরা নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ দেশবাসীর জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা এই সরকার কীভাবে নিশ্চিত করবে?
চলতি অধিবেশনে গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকরের লক্ষ্যে সরকারের কাছে জোর অনুরোধ পেশ করেন রফিকুল ইসলাম খান। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, শেখ হাসিনাসহ বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদের অন্যান্য দোসরদের আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা বা উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি সাবেক সংসদ সদস্য ওসমান হাদীর খুনিদেরও অনতিবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তিনি।
সংসদে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন রফিকুল ইসলাম খান। দুর্নীতি ও অন্যায়ের মূলোৎপাটন করতে তিনি জাতীয় বাজেটে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গুম-খুন সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের জোরালো দাবি জানান।









কমেন্ট করুন