ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জলসীমার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। জলসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখতে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গোপসাগরে টহলকালে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা মৎস্য ট্রলার ‘এফবি নাঈম’-সহ ১২ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ পদ্মা।
জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল থাকা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকার, বৈরী আবহাওয়া ও সী স্টেট ৪-এর উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতিতেও তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে বানৌজা পদ্মা। কয়েক ঘণ্টার তীব্র অনুসন্ধান শেষে রাডারের সাহায্যে ভাসমান ট্রলারটি শনাক্ত করা হয়। রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে সফলভাবে ‘এফবি নাঈম’ ও এতে থাকা ১২ জন জেলেকে উদ্ধার করে বানৌজা পদ্মা।
উদ্ধার অভিযান চলাকালে জেলেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি মাছ ধরার সময় আহত হওয়া একজন জেলেকে দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসাও।
এরপর প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্য দিয়েই ট্রলারটিকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার টোয়িং করে সুন্দরবন সংলগ্ন দুবলার চরে অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের আউটপোস্টের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেয় বানৌজা পদ্মা। পরবর্তীতে ট্রলারসহ উদ্ধারকৃত ১২ জন জেলেকে হস্তান্তর করা হয় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে।
জেলেদের ভাষ্যমতে, ট্রলারটি গত ৮ সেপ্টেম্বর পায়রা বন্দর থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে ১২ জন জেলেসহ ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে ভাসতে শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যেও বিপদগ্রস্ত জেলে ও নৌযানটিকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেয় নৌবাহিনী।










কমেন্ট করুন