ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
৭ অক্টোবরের হামাস হামলার আগে স্পষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্ক করেননি কিংবা দেশকে প্রস্তুত করেননি বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, এমন অভিযোগ তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। এ বিষয়ে একটি রাষ্ট্রীয় তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
হারেৎসের একটি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, সিনওয়ার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করছেন।
তবে এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে নেতানিয়াহুর দপ্তর। জেরুজালেম পোস্টের বরাতে জানানো হয়েছে, ওই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো কথাই হয়নি এবং এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তাও তিনি পাননি।
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামলার আগে পাওয়া সতর্কবার্তাগুলো নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’র অভিযোগ তুলেছেন বেনেট। তার দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা প্রধানদের সতর্ক করা, মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা কিংবা দেশকে হামলার জন্য প্রস্তুত করা, কোনোটিই করেননি নেতানিয়াহু।
আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী বেনেট সমর্থন জানিয়েছেন হারেৎসের ওই প্রতিবেদনকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার কয়েক দিন আগে হামাসের পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ।
এক্সে হিব্রু ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে বেনেট লেখেন, “আজ সকালে প্রকাশিত যে প্রতিবেদনটি বলছে, ৭ অক্টোবরের গণহত্যার ১০ দিন আগে নেতানিয়াহুকে সিনওয়ারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল, তা সত্য।” এখানে গাজায় তৎকালীন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
বেনেট আরও লেখেন, “ইসরায়েলি নাগরিকদের হাজার হাজার মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া এই ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত ও সরাসরি দায়ী।” তবে ওই সতর্কবার্তা সত্যিই দেওয়া হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে তিনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, তার ব্যাখ্যা দেননি বেনেট।
সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও নেতানিয়াহু বেশ কিছু মৌলিক পদক্ষেপ নেননি বলে দাবি করেন বেনেট। তার ভাষ্যে, নেতানিয়াহু “ঘটনাস্থলে যাননি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধানদের সতর্ক করেননি, ইসরায়েলকে হামলার জন্য প্রস্তুত করেননি এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকও ডাকেননি।”
এর পরিবর্তে হামাসের চাপের মুখে গাজায় আরও অর্থ স্থানান্তর এবং ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের জন্য অতিরিক্ত ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে হামাসকে আরও শক্তিশালী করে তুলছিলেন নেতানিয়াহু, এমন অভিযোগও তোলেন বেনেট।
‘সন্ত্রাসের কাছে নতি স্বীকার করে সাময়িক শান্তি কেনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি’ অনুসরণের অভিযোগও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তোলেন বেনেট। তার দাবি, নিরাপত্তা প্রধান ও আঞ্চলিক নেতাদের সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিলেন নেতানিয়াহু।
বেনেট লেখেন, “নেতানিয়াহু তার ধারণার কাছে এতটাই বন্দী ছিলেন যে আঞ্চলিক নেতাদের কাছ থেকে আসা স্পষ্ট সতর্কবার্তাও তাকে তার চেয়ার থেকে নড়াতে পারেনি।”
৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে ঘটে যাওয়া ব্যর্থতার জন্য নিজের দায় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কাতেই নেতানিয়াহু একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনে বাধা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন বেনেট।
তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু আর এক মিনিটও তার পদে থাকার যোগ্য নন, এবং অবশ্যই তিনিই এই পরিস্থিতি ঠিক করার উপযুক্ত ব্যক্তি নন।”
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নতুন সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেনেট, যা ইসরায়েলিদের ঐক্যবদ্ধ করবে এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে গঠন করবে একটি কমিশন। তিনি লেখেন, “৫০ দিনের মধ্যে এসবের সবকিছু বদলে যাবে।”
বেনেট ও আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ গত এপ্রিল মাসে ঘোষণা দেন যে, তারা ‘টুগেদার’ নামে একটি যৌথ তালিকায় নির্বাচনে অংশ নেবেন, যার নেতৃত্বে থাকবেন বেনেট। জোট ঘোষণার সময় বেনেট প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম সিদ্ধান্ত হবে ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে একটি সরকারি কমিশন গঠন।
এ ছাড়া তিনি প্রস্তাব দেন ‘সবার জন্য সেবা’ আইন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ আট বছরে সীমাবদ্ধ করার। পাশাপাশি তিনি জানান, তার সরকার গঠিত হবে একটি ‘জায়নিস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার’ ভিত্তিতে এবং তা নির্ভর করবে না আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদসীমা নেই, পরপর নির্বাচনে জয়ী হতে থাকলে পদে থাকতে পারেন তিনি।










কমেন্ট করুন