ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সন্ন্যাসতলীতে জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে শতবর্ষী ঐতিহ্যের ঘুড়ির মেলা। তুলসীগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষা এই লোকজ আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই হাজারো দর্শনার্থী ও ঘুড়িপ্রেমীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক শ বছর আগে সন্ন্যাসতলী মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ মেলার যাত্রা শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। ঘুড়ি মেলার মূল আকর্ষণ হলেও এখানে বাঁশের তৈরি মাছ ধরার সরঞ্জাম, মৌসুমি ফল, মিষ্টান্ন, গৃহস্থালিসামগ্রী এবং কাঠের আসবাবপত্রেরও জমজমাট বেচাকেনা হচ্ছে।
মেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি ঘুড়ির দোকান বসেছে। নানান রঙ, নকশা ও আকৃতির ঘুড়ির মধ্যে ‘চায়না চিল’ ঘুড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। ঘুড়ির ধরনভেদে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
বছরের পর বছর ধরে এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন স্থানীয়রা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ মেলায় এসে ঘুড়ি কিনছেন এবং খোলা আকাশে ওড়ানোর আনন্দে মেতে উঠছেন। কার ঘুড়ি সবচেয়ে উঁচুতে উড়বে কিংবা কার সুতা প্রতিপক্ষের ঘুড়ি কাটবে, তা নিয়ে চলে উৎসবমুখর প্রতিযোগিতা।
মেলা কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র দাস জানান, পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এ মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। অন্যদিকে, মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুক্তাদুল আলম।










কমেন্ট করুন