ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
টানা ১৫ মাসেরও অধিক সময় ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ শেষে বিগত ৩ আগস্ট নিজ ভূমে প্রত্যাবর্তন করেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসাজনিত কারণে আগামী ১২ আগস্ট তিনি পুনরায় বিদেশ গমন করবেন। ইতিপূর্বে দেশে আগমনের পর থেকেই অসুস্থ এই শিল্পীকে দেখতে সমবেত হচ্ছেন তার দীর্ঘদিনের সহশিল্পীরা।
ইতোমধ্যে অভিনেতা আলমগীর, নায়িকা রোজিনা ও শবনম সহ অনেকেই কাঞ্চনের সান্নিধ্যে এসে কুশল বিনিময় করেছেন। আগতদের সঙ্গে সময়গুলো উপভোগ্য হলেও মাঝে মাঝেই ঘটছে তালমেলাতে না পারার ঘটনা। কারণ অনেক কাছের মানুষকেও কাঞ্চন চিনতে পারছেন না, এমনকি স্মৃতিতে ধরে রাখতে পারছেন না বহু সাধারণ বিষয়। তার বর্তমান আচরণে নেই কোনো সাধারণ স্বাভাবিকতার ছাপ, যা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সংগঠনের সহসভাপতি লিটন এরশাদ।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের চলাফেরার মধ্যে আর সেই স্বাভাবিক ব্যাপারটি নেই। অনেককে চেনেন, আবার অনেককেই চেনেন না। অনেক কিছুই মনে রাখতে পারেন না। যেমন গতকাল একসঙ্গে আমরা জুমার নামাজ পড়লাম। নামাজ শেষ হতেই তার শরীর খারাপ হতে লাগল, বাসায় নিয়ে গেলাম।’
নিসচা-র এই জ্যেষ্ঠ দায়িত্বশীল মনে করেন, চিকিৎসায় প্রয়োগ করা কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেই মূলত কাঞ্চনের শরীরে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তিনি জানান, ‘কেমোথেরাপি ও রেডিও মিলে ১০০টি থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এটার তো একটা ধকল আছে। সেটার কারণেই এমন অবস্থা। তবে একটা ভালো খবর হলো, কেমো দেওয়ার ফলে টিউমারটির সাইজ অনেক ছোট হয়ে এসেছে। কেমো ও রেডিও তো শেষ হয়েছে। এখন গিয়ে একটা সিটি স্ক্যান-এমআরআই করাতে হবে।’
বিগত বছরের গোড়ার দিকে সিনিয়র এই শিল্পীর শরীরে টিউমার শনাক্ত করা হলেও স্বজনদের যৌথ সিদ্ধান্তক্রমে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল কাঞ্চনকে চিকিৎসার স্বার্থে লন্ডনে পাঠানো হয়। বিদেশের মাটিতে প্রাথমিকভাবে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে তার চিকিৎসা পর্ব শুরু হলেও প্রায় ৩ মাস যাবত বিবিধ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ৫ আগস্ট সেখানকার উইলিংটন হাসপাতালে অধ্যাপক ডিমিট্রিয়াসের তত্ত্বাবধানে কাঞ্চনের মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।










কমেন্ট করুন