Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের টানেলে বন্দিদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মিশন

ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় ডুবে যাওয়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে বন্দী হওয়া প্রায় ১০০ জন মানুষকে উদ্ধারে শুক্রবার হেলিকপ্টার নামিয়ে তৎপরতা চালিয়েছে নেপাল সামরিক বাহিনীর রেস্কিউ টিম।
উদ্ধার অভিযান প্রসঙ্গে নেপালি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত উল্লেখ করেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করা। ত্রিশূলী-৩ এ পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।”
কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। তবে কাজটি কঠিন। কারণ সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খুঁজে বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।”
চলমান উদ্ধার প্রচেষ্টার বিষয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত বৈরী পরিবেশ সত্ত্বেও সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “প্রতিকূল আবহাওয়া ও দ্রুতগতির বন্যার পানির মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণ আগে সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নেপাল সেনাবাহিনীর একটি দল সফলভাবে উদ্ধার করেছে।”
বার্তাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “একই সুড়ঙ্গে আটকা পড়া আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী এখনও কাজ করছে।”
অবশ্য আটকে পড়া কিংবা ইতোপূর্বে উদ্ধার পাওয়া নাগরিকদের পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আর দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার উত্তর নেপালের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ভয়াবহ প্লাবনের ফলে তৈরি হওয়া ধ্বংসলীলার আসল চিত্র আরও করুণভাবে ফুটে উঠেছে। মহাসড়ক, কালভার্ট-সেতু এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা নজিরবিহীন তাণ্ডবের বিবরণ সামনে এনেছেন।
ত্রিশূলী উপত্যকা এলাকার অন্যান্য বাঁধ নির্মাণ কাজ থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা জানান, অতি দ্রুত ও আকস্মিকভাবে এই বিপর্যয় নেমে এসেছিল।
কাজের স্থান থেকে বিমানে করে নিরাপদে ফিরে আসার পর দেব শ্রেষ্ঠ বলেন, “সেখানে অন্তত ৪০০ শ্রমিক ছিলেন। যতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন।”
অনুরূপ অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে শ্রমিক বুদ্ধ তামাং জানান, জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা লাগার সময় তিনি ড্যামের একটি সুড়ঙ্গের ভেতর অবস্থান নেওয়ার কারণে কোনোক্রমে রক্ষা পেয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি বাইরে বেরিয়ে উদ্ধার সহায়তা পান।
ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে তামাং বলেন, “আমি সুড়ঙ্গে থাকায় বেঁচে গেছি।” পুরো এক দিনের বেশি সময় অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার এয়ারলিফট করে তাঁকে বের করে আনা হয়।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে তিনি আরও যুক্ত করেন, “অন্য পাশে কাজ করা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সবাই পানির স্রোতে ভেসে গেছেন।”
প্রকল্পের ধ্বংস চিত্র তুলে ধরে অর্জুন কুমার তামাং নামে অন্য একজন শ্রমিক তাঁর কর্মস্থলের বিপুল ধ্বংসের বিবরণ ব্যক্ত করেন।
তিনি ক্ষোভ ও বেদনার সাথে জানান, “কতজন মারা গেছেন জানি না। তবে পানির স্রোতের প্রচণ্ডতায় সবকিছু ভেসে গেছে।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (ইউএসজিএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার সংঘটিত এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রধানতম কারণ ছিল আচমকা হিমবাহ ধস। এর ফলে বরফ ও পলির মিশেলে বিশাল এক ধস নেমে আসে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় ক্রমশ হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ফলে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদে বন্যা এবং হিমবাহ ধসে পড়ার আশঙ্কাজনক সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রকৃতির এমন তাণ্ডবে পুরো পাহাড়ি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যেসব জায়গায় যোগাযোগের জন্য কেবল সড়ক ও ব্রিজের ওপরই মানুষ পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল।
ক্ষতির মুখে পড়েছে নেপালের অন্যতম অর্থকরী শক্তি জলবিদ্যুৎ খাতও। বর্তমানে চালু থাকা এবং প্রস্তুত হতে যাওয়া বহু প্রকল্প এই প্রলয়ে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: বাসস

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন