ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন ও আসাদুজ্জামান নূর। সুজন তিনটি এবং নূর একটি মামলায় এই জামিন পেয়েছেন। তবে একটি হত্যা মামলায় আসাদুজ্জামান নূর এবং চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুর জামিন আবেদন খারিজ করেছেন আদালত।
পাঁচটি আলাদা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
অসুস্থতা ও দীর্ঘদিন কারাবাসের কারণ দেখিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন, আসাদুজ্জামান নূর ও মোজাম্মেল বাবু এই জামিন আবেদনগুলো করেছিলেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ শাজিয়া শারমিন জানান, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন আসাদুজ্জামান নূর। তার বিরুদ্ধে নীলফামারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। ২০১৩ সালে সিদ্দিক আলী নামে এক ব্যক্তিকে গাড়িচাপায় হত্যা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম রাব্বানীকে হত্যার অভিযোগে এই মামলা দুটি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘রাব্বানী হত্যা মামলায় নূর জামিন পেলেও সিদ্দিক আলী হত্যা মামলায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।’ সিদ্দিক আলী হত্যা মামলায় জামিন না মেলায় আসাদুজ্জামান নূর এখনই কারাগার থেকে বেরোতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৪ মে জুলাই অভ্যুত্থানসংক্রান্ত আরেকটি মামলায় আসাদুজ্জামান নূরকে জামিন দিয়েছিলেন।
সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। তার আইনজীবী এস এম আবুল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ যদি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন না করে এবং আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের জামিনের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ না দেয়, তবে তার কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই।’ তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুজনের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও পঞ্চগড়ে তিনটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুকে গত ৯ আগস্ট বনানী থানায় চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ১১ জানুয়ারি বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার চৌধুরী মো. হুমায়ুন কবির মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মোজাম্মেল বাবুর নেতৃত্বে একদল লোক বৈশাখী টিভির কার্যালয়ে গিয়ে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে। ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাকে আটক করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
আদালতে সুজন ও বাবুর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মো. মোতাহার হোসেন সাজু।










কমেন্ট করুন