ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে তীব্র বিদ্রুপধ্বনি। মাঠে উপস্থিত হওয়ার পরপরই দর্শকদের একাংশের বৈরী প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন তিনি। জনপ্রিয় স্ট্রিমার ‘আইশোস্পিড’-এর লাইভ স্ট্রিম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতেও সেই দৃশ্য দেখা যায়।
সোমবার (২০ জুলাই) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওতে স্টেডিয়ামের দর্শকদের ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
রোববার ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে মার্কিন পপ তারকা জেনিফার হাডসন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন। ঠিক সেই সময় ট্রাম্পের আগমনকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামে বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো ভিআইপি বক্সে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে যোগ দেন। এরপরই স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের মুখ ভেসে উঠলে গ্যালারিতে বিদ্রুপধ্বনি শুরু হয়। সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তাদের লাইভ ব্লগে জানায়, বড় পর্দায় ট্রাম্প ও মেলানিয়াকে দেখানোর সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকদের একাংশ চিৎকার করে বিদ্রুপ করতে শুরু করেন।
২১ বছর বয়সী স্ট্রিমার আইশোস্পিডের লাইভ ভিডিওতেও দেখা যায়, মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত চলাকালেই দর্শকরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া, ভুয়া’ ধ্বনি দিচ্ছিলেন। সে সময় পরিস্থিতি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ভিডিওতে আইশোস্পিডকে অপ্রস্তুত দেখা যায় এবং তাকে বলতে শোনা যায়, “ওহ, আচ্ছা!” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ফক্স স্পোর্টসের অফিশিয়াল সম্প্রচারেও ঘটনাটি ধরা পড়েছে। বড় পর্দায় যখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দম্পতিকে দেখানো হচ্ছিল, তখনই দর্শকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গণ্ডি পেরিয়ে এই বিদ্রুপধ্বনি শোনা যায় খেলা দেখার জন্য স্থাপিত ফ্যান পার্কগুলোতেও। নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের একটি ফ্যান পার্ক থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পর্দায় ট্রাম্প ও মেলানিয়ার ছবি ভেসে উঠলেই সেখানে উপস্থিত শত শত মানুষ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চিৎকার করছেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ কেউ ট্রাম্পকে ঘিরে এ ঘটনার প্রতি আনন্দ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকদের দাবি, বিদ্রুপধ্বনি দেওয়া ব্যক্তিরা মূলত স্পেন ও আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলেন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি তারা এমন আচরণ করতেই পারেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া










কমেন্ট করুন