চট্টগ্রাম সংবাদদাতা:
ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে ব্যক্তিগত ছবি ও অডিও বিকৃত করে মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভুক্তভোগী হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ।
মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন, চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব মো. আরিফ মইনউদ্দিন (৩০), সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক টিপু (৩২), সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হুজ্জাত উল্লাহ আবির (৩২), মহানগর জাতীয় ছাত্রশক্তি সংগঠক সাদিক আরমান (২২), জাতীয় যুব শক্তির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব সজিব ভূঁইয়া (২৭) এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইনুল হোসেন। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে গত ১৪ মে সন্ধ্যা থেকে ১৫ মে রাত পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদের ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মানহানিকর অডিও ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যও প্রচার করা হয়। এর বাইরে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করে ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, বাদী গত ১৬ মে কোতোয়ালী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি শনাক্ত ও ট্র্যাক করা এবং আপত্তিকর ছবি ও অডিও সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানান।
এ বিষয়ে বাদী হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (৩১) টিবিএসকে বলেন, গত ১৪ মে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির কমিটি গঠন ও কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আমরা যারা জুলাই অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম, তারা অসন্তোষ প্রকাশ করি। এরই ধারাবাহিকতায় আমি, রাফসান জানিসহ প্রায় ২৩ জন পদত্যাগ করি এবং পদবঞ্চিতদের একটি অংশও আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে। এরপর থেকেই আমাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাইবার হামলা চালানো হয় বলে আমি মনে করি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এমিল হাসান’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে এআই ভয়েস ক্লোনিং ব্যবহার করে আমার কণ্ঠ নকল করে একাধিক ভিডিও ছড়ানো হয় এবং বুস্টিংয়ের মাধ্যমে তা প্রচার করা হয়, যা আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা।
সাঈদ আরও দাবি করেন, ‘আমি গুরুতর নিরাপত্তাহীনতায় আছি এবং মনে করি এর পেছনে পরিকল্পিত আর্থিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এ বিষয়ে আরিফ মইনউদ্দিন ও আশরাফুল হক টিপুর নামসহ একটি ১৬ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যেখানে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা ও রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।’
মামলা গ্রহণের পর চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আল-আমিন টিবিএসকে জানান, ‘অভিযোগের পর আদালত অজ্ঞাতব্যক্তিদের নামে মামলা গ্রহণ করেছেন এবং পিটিআইকে এর তদন্তভার দিয়েছেন।’










কমেন্ট করুন