Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের মারাত্মক ঊর্ধ্বগতি, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতালগুলো

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

খুলনা অঞ্চলের সরকারি ও বেসরকারি ডজন তিনেক হাসপাতালে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্তকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও কেবল সরকারি হাসপাতালগুলোতেই প্রতিদিন তিন শতাধিক রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

রোগীদের ঢল সামলাতে বেসরকারিখাতে পৃথক ওয়ার্ড চালু করেও উদ্ভূত চাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও পরিচালনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সংরক্ষিত শয্যার সংখ্যা মাত্র ৪০টি। অথচ গতকাল সেখানেই চিকিৎসারত ছিলেন ১৪৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। দিন দিন অতিরিক্ত রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচতলার জরুরি চিকিৎসাসেবা কক্ষে পৃথক ডেঙ্গু ইউনিট চালুর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সমান্তরালভাবে খুলনা সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের নির্ধারিত ২৫টি বেডের জায়গায় চিকিৎসাধীন আছেন ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী। শয্যা খালি না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা রূপ নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস জানান, বাসাবাড়ির টব, ছাদে থাকা গাছের পাত্র কিংবা অনাবৃত স্থানে পড়ে থাকা ডাবের খোসার পরিষ্কার সঞ্চিত পানিতে ক্ষতিকর এডিস মশা বংশবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। বিদ্যমান বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ব্যক্তিসচেতনতার ঘাটতির ফলেই নাগরিকরা অজান্তে নিজেদের আশপাশে এডিসের বংশবিস্তারে সহায়তা করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, জুলাই মাসের মধ্যভাগ থেকে ক্রমান্বয়ে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধিমুখী ছিল, যা আগস্টের প্রারম্ভেই আশঙ্কাজনক রূপ পরিগ্রহ করে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের অধীন ১০টি জেলায় নতুন করে ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে শয্যা নিয়েছেন। বর্তমানে পুরো বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪২০ জন, যার মধ্যে কেবল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও তৎসংলগ্ন জেলা হাসপাতালগুলোতেই চিকিৎসায় রয়েছেন ২৭৩ জন। চলতি মৌসুমে সমগ্র খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩০৫ জনে, আর এর মধ্যে মারা গেছেন মোট ১২ জন।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে গিয়ে সেখানকার করুণ চিত্র দেখে তিনি শিউরে উঠেছেন। সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসালয়গুলোতে শয্যার হাহাকার তৈরি হয়েছে। এই দুর্যোগ সামলাতে সকল শক্তি নিয়োজিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নগরবাসী ও সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা কামনা করেছেন।

অন্যদিকে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল হক কাওছার সতর্ক বার্তা দিয়ে জানান, এডিস মশার বিস্তার রুখতে বাড়ির ছাদ বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা ফুলের টব ও আশপাশের জমানো পানি পরিষ্কার করা জরুরি। জমা পানির উৎস না থাকলে মশার বংশবৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন