Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি, মস্তিষ্কে টিউমার ও মৃত্যুর শঙ্কা নিয়ে খোলামেলা আলাপ

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরেছেন জনপ্রিয় ছোটপর্দার তারকা অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অংশীদার’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন তিনি। সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নাটকের গল্পটি মূলত সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন নারীর নিরন্তর সংগ্রামের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তানিয়া বৃষ্টি তাঁর শারীরিক অসুস্থতা, মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়া এবং জীবনের সবচেয়ে কঠিন সেই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
গত ডিসেম্বরের শুটিংয়ের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, টানা চার দিন তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে কাজ করার পর পঞ্চম দিনে বমি শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন পরীক্ষার রিপোর্টে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথমদিকে অপারেশন করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে মনে করলেও চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের এক অনকোলজিস্ট যখন তাঁকে জানান যে তাঁর হাতে আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর সময় আছে, তখন জীবনে প্রথম বড় ধাক্কা খান এই অভিনেত্রী। সেই মুহূর্তটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ডাক্তার যখন বেঁচে থাকার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন মাকে আর পাশে পাবেন না, তখন তিনি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন এবং প্রচণ্ড কেঁদেছিলেন।
ঢাকা ও চেন্নাইয়ে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়কার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে তানিয়া বলেন, ঢাকার প্রথম অপারেশনের আগে মায়ের বুকে জড়িয়ে কেঁদেছিলেন এবং সহকর্মীদের বিদায়ী বার্তা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় সার্জারির সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা এতই অবনতি হয়েছিল যে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়েছিল। ওই সময় তাঁর নিজের কোনো হুঁশ না থাকলেও সারারাত তাঁর মায়ের কান্না এবং জায়নামাজে দাঁড়িয়ে চোখের জলের কথা পরে পরিবার সূত্রে জানতে পেরেছেন, যা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।
অসুস্থতার এই সংকটময় সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়ানো প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, শুরুতে এই ধরনের ভিত্তিহীন খবর দেখে খুব খারাপ লাগলেও পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে কিছু মানুষ কেবল ভিউ পাওয়ার লোভে এ ধরনের কাজ করে। এখন আর এসব মিথ্যা খবর তিনি গায়ে মাখেন না।
এই কঠিন লড়াইয়ে পুরো মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল জানিয়ে তিনি মোশাররফ করিম, নিলয়, প্রযোজক আলী বশীরসহ সহকর্মী ও পরিচালকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর মা ও বোন। বাবা না থাকায় তাঁর মা সারারাত মাথার পাশে জেগে থেকে পাহারা দিয়েছেন এবং টেনশনে নিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মা ও বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে আবার স্বাভাবিক জীবনে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন