Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেন চিত্রনায়িকা পরীমণি, নাসির উদ্দিনের মামলায় আদালতে হাজিরা

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত পরীমণির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া মেনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানালে পরীমণির আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এলার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় পরীমণি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরবর্তীতে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন আমলে নিয়ে তার জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এর আগেও গত বছর ২৬ জানুয়ারি একই মামলায় অভিযোগ গঠন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন এই চিত্রনায়িকা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন তদন্ত শেষে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত পরীমণি ও জিমিকে সমন জারি করলে তারা ২০২৪ সালের ২৫ জুন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং সেখানে বসে অ্যালকোহল সেবন করেন। পরবর্তীতে বাদী ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাকেন এবং বিনা মূল্যে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে নাসির উদ্দিন রাজি না হলে পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন এবং একপর্যায়ে তার দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। এছাড়া আসামিরা তাকে মারধর ও ভাঙচুর চালিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন