Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

ইয়েমেনে আবার রক্তক্ষয়ী হামলা, সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ২৫ ও আহত ৩০

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
যুদ্ধের করাল গ্রাসে আবারও রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে ইয়েমেন। দেশটির রাজধানী সানার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সৌদি আরবের চালানো বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। বেসামরিক নাগরিকদের আবাসন ছাড়াও হামলার কবলে পড়েছে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো। এমনকি দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে সৌদি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো এই বিমান হামলায় ব্যাপক হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, রাজধানী সানার বানি হুশাইশ জেলার আবাসিক এলাকায় সরাসরি হামলা চালানো হলে অন্তত ২৫ জন প্রাণ হারান এবং ৩০ জন মারাত্মক আহত হন। শিকার হওয়াদের বড় অংশই নারী ও শিশু।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও স্পষ্ট করেন যে, হতাহতের এই তালিকা কেবল প্রাথমিক। উদ্ধার অভিযান ও চিকিৎসা সেবা এখনো অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা পরবর্তীতে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, সাদার কিতাফ ও আল-বুকা এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সৌদি বিমান বাহিনী নয়টি আলাদা বিমান হামলা পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে।
একইভাবে তাইজ জেলার আল-মিসরাখ এলাকার আল-মাতালি গ্রামে হওয়া বোমাবর্ষণে পাঁচজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক কিশোরী ও একজন প্রবীণ ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইয়েমেনের জাতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ আবদুস সালাম অভিযোগ এনে বলেন, সৌদি বাহিনী ইচ্ছা করেই সাধারণ বাজার ও গ্রাম এলাকায় সাধারণ মানুষদের ওপর বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি অনুযায়ী, আগের দিন তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ অঞ্চলের আল-হাদারা হাটে সৌদি বাহিনীর চালানো হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং বহু লোক আহত হন।
আবদুস সালাম আরও জানান, বানি হুশাইশে বোমাবর্ষণের পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে ছুটে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপরও বিএসএফ হামলা চালায়, যার ফলে চরম ব্যাহত হয় উদ্ধার কাজ।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত বলেন, “নারী ও শিশু হত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করছে ইয়েমেন। দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য সৌদি শাসকগোষ্ঠীকে শাস্তি দেওয়া হবে।”
তিনি সৌদি বাহিনীর এই আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সুরক্ষিত বাসস্থান ও লোকালয়ে তারা ঠিক একই কায়দায় হামলা চালাচ্ছে, যা ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসী নীতির রূপান্তর।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সৌদি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৯৮১ জন মানুষ হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৩০৬ এবং চিকিৎসাধীন আহত ৬৭৫ জন।
শনিবার সংস্থাটির দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত এই যুদ্ধের খেসারত সবচেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে নিরীহ আপামর জনগণকে।
ইয়েমেনের একের পর এক অঞ্চলে হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মুখে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির এই ঘটনা দেশটির সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা ও তৈরি হওয়া মানবিক বিপর্যয়কে আরও জটিল করে তুলছে। তবে উদ্ভূত এসব হতাহতের বিবরণ ও আনীত অভিযোগসমূহ স্বাধীন কোনো মাধ্যম দ্বারা যাচাইয়ের অবকাশ রাখে।
সূত্র: পার্সটুডে

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন