Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

কার্ড জালিয়াতি ঠেকাতে ‘অ্যাড মানি’তে নাম মিলিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

ব্যাংক কার্ড থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর বা ‘অ্যাড মানি’র ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা বিধি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কার্ডধারী এবং এমএফএস অ্যাকাউন্টধারীকে একই নামে নিবন্ধিত হতে হবে। আজ (১৯ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি বিদেশি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে এমএফএসের মাধ্যমে বড় ধরনের ফান্ড জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শিগগিরই পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) থেকে এ বিষয়ে আলাদা একটি সার্কুলার জারি করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্ড হতে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ করার ক্ষেত্রে উক্ত এমএফএস হিসাবটি কার্ডধারীর নিজ নামে নিবন্ধিত কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। তবে আগামী আগস্ট পর্যন্ত সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে এক ব্যক্তির কার্ড দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে অ্যাড মানি করা যাবে।

এই সাময়িক ব্যবস্থায় এক ব্যক্তির কার্ড থেকে অন্যের এমএফএসে অর্থ পাঠাতে হলে প্রথমে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করতে হবে। ওই লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর কার্ডটি এমএফএস অ্যাকাউন্টে যুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে।

এছাড়া কার্ড থেকে এমএফএসে অ্যাড মানির ক্ষেত্রে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই লেনদেনকে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’-এর পরিবর্তে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে দৃশ্যমান রাখতে হবে। আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এই ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা গেলে ১ আগস্ট থেকে সংশ্লিষ্ট কার্ড দিয়ে অ্যাড মানির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

খাত সংশ্লিষ্ট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের গ্রাহকদের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) বাইপাস করে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি সাইবার অপরাধী চক্র। ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর অনুসন্ধানে উঠে আসে, চক্রটি অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম বা ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই ব্যাংক কার্ড থেকে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছিল।

এই জালিয়াতির ঘটনার পর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সাময়িকভাবে তাদের কার্ড থেকে এমএফএসে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এই কারিগরি দুর্বলতা চিরতরে দূর করতেই এখন থেকে ব্যাংক কার্ড ও মোবাইল ওয়ালেটের মালিক একই ব্যক্তি হওয়া বাধ্যতামূলক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন