ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত দান ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার উদ্যোগ নিয়েছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজার প্রাঙ্গণেই দানবাক্স ও দানের ডেগ খুলে অর্থ গণনার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর থেকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রশাসনের উপস্থিতিতে দানের অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম নিজে উপস্থিত থেকে মাজারের দুটি দান ডেগ এবং প্রশাসনের স্থাপন করা নতুন দানবাক্স খুলে দেন। পরে প্রকাশ্যেই দানের টাকা গণনা করা হয়।
জানা গেছে, গত কয়েক দিনে দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া অর্থ গণনা করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ, সৌদি রিয়াল, ডলার, পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে দানের অর্থ গণনার দায়িত্ব খাদেম ও মুতাওয়াল্লিদের হাতে ছিল। শত শত বছর ধরে দানপাত্র খোলা ও হিসাব সংরক্ষণের কাজ অভ্যন্তরীণভাবে সম্পন্ন হতো। সাধারণ মানুষ কিংবা গণমাধ্যমের সামনে কখনোই এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
জেলা প্রশাসনের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার মাজারের ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয় এবং প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে মাজারভক্ত, খাদেম ও আশেকানদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা এটিকে মাজারের ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এর মধ্যেই রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে উপসচিব পদে ন্যস্ত করা হয়। যদিও ওই আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে তার প্রত্যাহার আদেশ বাতিল এবং পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, সারওয়ার আলম জনস্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং তার নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।










কমেন্ট করুন