Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ৩ জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের দাবি ইরানের

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরান। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত জলপথ বা নিয়ম অমান্য করে চলাচলের সময় ওই জাহাজগুলো নৌমাইনে আঘাত হানার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যম এপি প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটি বিশাল সুপারট্যাংকারে দুই মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল বোঝাই ছিল। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, সুপারট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালির একটি সামুদ্রিক মাইনে ধাক্কা খাওয়ার পর এতে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরবর্তীতে জাহাজটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রণালির মুখে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যায়। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটির নির্দিষ্ট পরিচয়, এর ক্রুদের বর্তমান অবস্থা কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে একই দিনে আরও দুটি তেলবাহী জলযানে মাইন বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছিল ইরানের নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্যমতে, ওই জাহাজগুলো নিজেদের নেভিগেশন এবং জিপিএস বা অবস্থান শনাক্তকরণ সিস্টেম ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রেখে অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও তারা নির্দেশ অমান্য করায় এই পরিণতি ঘটে।
উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে তেহরান। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাতে জড়ানোর পর থেকে এই জলপথের সিংহভাগ অংশই তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই দাবি খণ্ডন করে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথগুলো থেকে ইতোমধ্যে সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জলযানের ওপর হামলার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ভিন্ন আরেকটি ঘটনার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে চলমান একটি ট্যাংকারের গায়ে একটি ছোট নৌযান থেকে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইস স্থাপন করা হয়। এর ফলে ট্যাংকারটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে গেলেও পরবর্তীতে তা নিভিয়ে ফেলা হয় এবং জাহাজটি নিরাপদেই গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। এ ঘটনায় সব ক্রু অক্ষত ও নিরাপদ ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
অপরদিকে ওমানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশটির মুসান্দাম উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় হামলার শিকার হওয়া পানামার পতাকাবাহী অপর একটি ট্যাংকার থেকে ইতোমধ্যে ২৫ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান, যুক্তরাজ্য ও ওমানের তরফ থেকে প্রকাশিত এই বিভিন্ন ঘটনাগুলো একই জাহাজ কিংবা একই হামলার সাথে সম্পৃক্ত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মাঝেই সৌদি আরব জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতোই বিদ্রোহীদের পাঠানো একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন মক্কা অঞ্চলের আকাশসীমায় সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে তাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তবে হুতোইদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলার অভিযানের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাদের বর্তমান সামরিক অভিযানগুলো মূলত সৌদি আরবের কৌশলগত তেল স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করেই পরিচালিত হচ্ছে।
এই সামগ্রিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধ নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করে ইরানি নীতিনির্ধারকদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রতিনিধি দলে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তেহরান পক্ষ থেকে চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য অনুযায়ী, ওই চিঠিটি মূলত আনুষ্ঠানিক কোনো শান্তি আলোচনার চেয়ে বরং যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সম্ভাবনার সাথেই বেশি সম্পর্কিত ছিল।
সূত্র: এপি

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন