ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।”
এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না বলেও জানান তিনি।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
তিনি জানান, বৈঠকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা ও বিশদ আলোচনা হয়েছে। সরকারের গৃহীত উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সুফল মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে মূল্যায়নের তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে সরকারের সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, “কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজ ও দখলদারের জায়গা বিএনপিতে নেই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের পরিচয় দিয়ে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, “উৎসব চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উসকানিমূলক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিশ্চিদ্র নজরদারির বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে আয়োজনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থাকতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের কাজ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, এ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। দলীয়ভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হতে পারেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না। তাই তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চিফ হুইপ আরও জানান, নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা করেন। তবে নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না। প্রকৃত অর্থে যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য, তিনি যেন নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদের ভেতরে ও বাইরে দলীয় কার্যক্রম, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চান। সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার মানুষের সমস্যা জানতে হবে এবং সেগুলো সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। সরকারের কার্যক্রমের সুফল যেন জনগণের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়ে সচেতন রয়েছে সরকার। প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার, যাতে শ্রমিকদের কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের আজকের সভাকে একটি বিশেষ বৈঠক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে তাদের এলাকার সমস্যা শুনেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা এবং দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।










কমেন্ট করুন