ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
বাংলাদেশের শ্রম খাতের সংস্কার, ইপিজেডসহ সব কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। আগামী অক্টোবরের প্রস্তাবিত যৌথ মিশনসহ নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলওর ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, শ্রম বিধিমালা সংশোধন, ত্রিপক্ষীয় ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ গঠন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট চালু এবং শ্রমিকদের জন্য সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। একইসঙ্গে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন কর্মসংস্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। শ্রম অভিবাসনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতে সাম্প্রতিক সংস্কার, বিশেষ করে ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন ও নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের প্রশংসা করেন এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমে আইএলওর পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননসহ দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।









কমেন্ট করুন