ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসানে চুক্তির সম্ভাবনা কমে আসায় মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সকে সোমবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় দেশটি সামরিক ক্ষেত্রে ‘পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাবে। একই সময়ে ওয়াশিংটনও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময়ের হিসাবে ভোরের দিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে সোমবার ব্রেন্টের দাম ৩০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭৫ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ ডলারে উঠেছিল, যা ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
শান্তি আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া থেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা থেকে শুরু হওয়া সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক ক্রমেই নড়বড়ে হয়ে ওঠায় সপ্তাহের শুরুতেই তেলের দাম বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো চুক্তি এখনো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না এবং জাহাজ চলাচলের সংখ্যা খুবই কম।’
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে আসা একটি জাহাজে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলাবারুদের আঘাত লাগে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। সপ্তাহান্তের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি বলে বিভিন্ন ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গেছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে একটি জাহাজকে সৌদি সামরিক জাহাজ এবং তার সঙ্গে থাকা চারটি জাহাজের বহর হিসেবে উল্লেখ করে সেগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রাম অ্যাপে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুভ্র সরকার বলেন, ‘কোনো ধরনের চুক্তি না হলে চতুর্থ প্রান্তিক এবং এমনকি ২০২৭ সালেও তেলের দামের প্রত্যাশায় এর প্রভাব পড়বে।’
তিনি বলেন, চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা যতদিন থাকবে, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলাদা আলোচনা চলছে। তেহরান জানিয়েছে, দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদার ওমানের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় দেশটিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রয়টার্সের সোমবারের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানির মজুতও কমে থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স










কমেন্ট করুন