Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

পানিসংকটে খালে এক নৌকা, দুইশ বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার খেজুরতলা খালে প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একটি নৌকা নিয়ে। খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় প্রতিযোগিতামূলকভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নৌকা নিয়ে আয়োজনটি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা খালে এ নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুইশ বছর ধরে প্রতিবছর ১ ভাদ্র এ খালে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে।

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর খেজুরতলা খাল ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। দূরদূরান্ত থেকে নানা ধরনের নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে খালের দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শক। তবে এবার পানির স্বল্পতার কারণে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

এরপরও ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন ঘিরে মানুষের আগ্রহে কোনো কমতি দেখা যায়নি। প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় ছিল। কেউ খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন, আবার কেউ নৌকায় চড়ে পানিতে ভেসে এ আয়োজন দেখেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে খালের দুই পাড়ে বসে শত শত অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে ব্যবসায়ীরা খেলনা, খাবার, মিষ্টি, ঝালমুড়ি, চটপটি, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজান। ফলে প্রতিযোগিতা না থাকলেও মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

খেজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবির (৬৫) বলেন, খেজুরতলার নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্য। একসময় দূরদূরান্ত থেকে বড় বড় নৌকা নিয়ে প্রতিযোগীরা এখানে আসতেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের বৈঠার ছন্দ ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে খালপাড় মুখর হয়ে উঠত। সময়ের সঙ্গে নানা কারণে সেই ঐতিহ্যে ভাটা পড়েছে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, খালে পানি কম থাকায় এবার প্রতিযোগিতামূলকভাবে নৌকাবাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য একটি নৌকা দিয়ে হলেও আয়োজনটি ধরে রাখা হয়েছে। আগামীতে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকলে বড় পরিসরে নৌকাবাইচ আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য মাওলানা রাশেদ হোসেন বলেন, নৌকাবাইচটি এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এবার একটি নৌকা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা দেখে ভবিষ্যতে আবারও আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরতলার নৌকাবাইচ টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে খালটির নাব্যতা ধরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে আগামীতে আবারও জমজমাট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায়।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন