ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশিত হলেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান ও যুদ্ধবিরতির অনুরোধ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আর এই পুরো সময়জুড়েই দেশটিতে অস্ত্রের সরবরাহ চলেছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার মাসব্যাপী অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি হওয়ার আগ পর্যন্ত গাজায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য, শুল্ক রেকর্ড এবং তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে আল-জাজিরা যে চিত্র তুলে ধরেছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। আইসিজের রায়ের পর অস্ত্র আমদানি আরও বেড়ে যায় এবং বেশিরভাগই ছিল গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক যুদ্ধাস্ত্র।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরায়েলে ২,৬০৩টি সামরিক সরঞ্জামের চালান পৌঁছেছে, যার মোট মূল্য ৩.২২ বিলিয়ন ইসরায়েলি শেকেল বা প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই এসেছে আইসিজের রায়ের পরে। শীর্ষ পাঁচ সরবরাহকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র। একাই মোট আমদানির ৪২ শতাংশের বেশি জুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের অংশ ২৬ শতাংশ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সমালোচনা করলেও বাস্তবে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। চীন আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধের সময়ও অস্ত্রের চালান পাঠিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জোরালো সমালোচনা করলেও শুল্ক তথ্যে দেখা যায় চালান বন্ধ হয়নি। ব্রাজিল আইসিজের পদক্ষেপকে বাধ্যতামূলক বলেছে, কিন্তু অস্ত্রের কিছু অংশ পাঠিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিজের রায় জানার পরও যেসব দেশ অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে গেছে তারা গণহত্যায় সহযোগিতার দায় এড়াতে পারবে না। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রেস এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্পের মতে, গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু চূড়ান্ত রায়ের পর নয়, ঝুঁকি দেখামাত্রই শুরু হয়। জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বলেছে যে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন বলেন, ইসরায়েল একা এত বড় মাপের বোমাবর্ষণ চালাতে পারত না। এর জন্য বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। আল-জাজিরার এই অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে গণহত্যার ঝুঁকির কথা জানার পরও অনেক দেশ শুধু নীরব থাকেনি, বরং সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা










কমেন্ট করুন