ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটিতে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখতে হবে।
এটিএমে সার্বক্ষণিক সেবার নির্দেশ
সব এটিএম বুথে অবিচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখতে হবে এবং কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে। বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এটিএম বুথ পরিদর্শনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পিওএস ও কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনও সার্বক্ষণিক সচল রাখতে বলা হয়েছে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অনলাইন লেনদেনে বাধ্যতামূলক টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন
ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়েতে নিরাপত্তা জোরদারে ‘টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (টু-এফএ) বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। বিশেষত ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ ধরনের কার্ডভিত্তিক অনলাইন লেনদেনে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘৮৫’ ব্রাঞ্চ কোডসম্বলিত লেনদেনের সেটেলমেন্ট রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভিং ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এমএফএস এজেন্টে পর্যাপ্ত নগদের নির্দেশ
এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছুটির সময় নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন চালু রাখা এবং এজেন্ট পয়েন্টে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ঈদের সময় বাড়তি লেনদেনের চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এসএমএস অ্যালার্ট ও হেল্পলাইন চালুর নির্দেশ
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সব ধরনের ইলেকট্রনিক লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে। গ্রাহক যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনে প্রতারণা প্রতিরোধে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং পূর্বে জারি করা সব নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলেছে।










কমেন্ট করুন