Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ, আজ থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন খরচে মালয়েশিয়ায় ১১২ জন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুই পৃথক ক্যাটাগরিতে মাসিক ১ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত (প্রায় ৫২ হাজার টাকা) মূল বেতনে এসব কর্মী নিযুক্ত হবেন। নিয়োগের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনশক্তি নিয়োগকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এসংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি জারি করে। মালয়েশিয়ার ‘ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন এসডিএন বিএইচডি’ প্রতিষ্ঠানের অধীনে ‘অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট’ এবং ‘টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার’ পদে কর্মীগুলো নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে আগামী ৮ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত বোয়েসেলের নিজস্ব রেজিস্ট্রেশন পোর্টালে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
আবেদনকারীদের বয়সসীমা ২২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক। এর সাথে থাকতে হবে একটি বৈধ পাসপোর্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে চাকরির মেয়াদ তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক হলেও পরবর্তীতে চুক্তি নবায়নের সুযোগ রয়েছে।
চাকরির শর্ত হিসেবে নির্বাচিত কর্মীদের সপ্তাহে ৬ দিন প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হবে। কাজের আবশ্যকতা ও মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুসরণে থাকবে ওভারটাইমের সুবিধা। তা ছাড়া কর্মীদের থাকা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং যাতায়াতের বাহন নিশ্চিত করবে নিয়োগকর্তা।
আবেদনের যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্তাবলি: অপারেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর পাশাপাশি মৌলিক কম্পিউটার জ্ঞান, ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা এবং ওয়্যারহাউসে কাজ করার উপযোগী শারীরিক গঠন থাকা আবশ্যক। সংশ্লিষ্ট খাতে ১ থেকে ২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন। একই সাথে ফর্কলিফট, পাওয়ার প্যালেট ট্রাক ও রিচ ট্রাক চালনায় পারদর্শী প্রার্থীরা অতিরিক্ত সুবিধা লাভ করবেন।
অন্যদিক, টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার পদে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে ধরা হয়েছে ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান পাস। তবে ইলেকট্রিক্যাল, ভোকেশনাল, পলিটেকনিক কিংবা স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উক্ত পদে আবেদনের জন্য ওয়্যারহাউস পরিচালনা, আইটি সরঞ্জাম ব্যবহার, মাইক্রোসফট এক্সেল এবং ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।
নিয়োগ যেভাবে চূড়ান্ত করা হবে: বোয়েসেল উল্লেখ করেছে, আবেদনের ভিত্তিতে সফটওয়্যারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে শুরুতে ৩০০ জন প্রার্থীকে নির্বাচন করা হবে। এই তালিকাটি বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ান কোম্পানির প্রতিনিধিরা কারিগরি ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত ১১২ জন কর্মীকে বাছাই করবেন। উল্লেখ্য, একজন প্রার্থী যেকোনো একটি পদের জন্যই আবেদন জানাতে পারবেন।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো ধাপেই নির্বাচিতদের কোনো ফি প্রদান করতে হবে না। এ বিষয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে প্রাক্কলিত আবেদনকারীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে বোয়েসেল।
চলতি ডিসেম্বরেই প্রথম ফ্লাইট পাঠাতে চায় সরকার: এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিনা খরচে শ্রমিক পাঠানোর এই প্রচেষ্টার অধীনে চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় প্রথম ২ থেকে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করার লক্ষ্য স্থির করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনে নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোর সমন্বয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে মনোনীত কর্মীদের কোনো প্রকার অভিবাসন ব্যয়ভার বহন করতে হবে না, যার পুরোটাই দেবে মালয়েশিয়ান নিয়োগকর্তা। বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর একটি পাইলট উদ্যোগ নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানা যায়।
তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার সীমানার মধ্যে নির্ধারণ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান মন্ত্রী। অবশ্য এই ইস্যুতে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়নি।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা পরিহার করে সব বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে সরকার।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা শেষ না হওয়ায় খরচ নির্ধারণের বিষয়টি ঝুলে আছে। চুক্তি অনুযায়ী এজেন্সি বাছাইয়ের মূল সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার হাতে থাকলেও সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি এজেন্সির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন