Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় লাফিয়ে বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তীব্র হওয়া ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। প্রায় ৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ৩৫ সেন্ট বা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১৩ ডলার ১৭ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৩২ সেন্ট বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৯ ডলার ৪৭ সেন্ট।
ব্রেন্ট ক্রুডের এই সর্বশেষ দর গত ৪ মে-র পর সর্বোচ্চ। একই সাথে বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো কারিগরিভাবে অতিরিক্ত ক্রয়চাপের অঞ্চলে প্রবেশ করল।
সৌদি আরবের তেল সংক্রান্ত স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সম্ভাব্য যৌথ অভিযানের আলোচনার প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জ্বালানিবিষয়ক পরামর্শক সংস্থা রিটারবুশ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষকরা এক পর্যালোচনায় জানিয়েছেন, “এসব ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে তেলের দামে অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হয়েছে।”
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার মুখে পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা সৌদি আরামকো।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের পুরনো সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির অভিমুখে হুতিরা অগ্রসর হওয়ায় জ্বালানি পরিবহন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তেল খাতের বিশ্লেষক তামাস ভার্গার ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সংঘাতপূর্ব অবস্থায় ফেরার খবর মিললেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আক্রমণ এবং সৌদির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলার মুখে এই ইতিবাচক দিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
মরগান স্ট্যানলির পরিসংখ্যান বলছে, শেষ সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে গিয়েছে। অপরদিকে কেপলারের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পূর্ববর্তী এক বছরে এই অঞ্চল হতে গড়ে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়েছিল।
এসবের মাঝেই মার্কিন তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ভ্যালেরো এনার্জি বৃহস্পতিবার চলতি মৌসুমের আর্থিক হিসাব প্রকাশ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকে অতিক্রম করে গেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান ও ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে পরিশোধিত তেলের মুনাফার ব্যবধান অনেকটাই বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি বহাল থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেলের বাজার ও সরবরাহের ওপর এই টানাপোড়েন অব্যাহত থাকবে, যা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন