ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়, বিশেষ করে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, আজানের মাইক সরিয়ে নিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়, আদালতের নির্দেশ মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে শব্দদূষণসংক্রান্ত বিধি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি সরকার। এই বিধি অনুযায়ী, দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪৫ ডেসিবেল মাত্রায় শব্দ ধারণের অনুমতি রয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই মাঠ প্রশাসন কাজ করছে।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সরকার কেবল আদালতের পুরোনো একটি নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। নিয়ম অনুযায়ী মসজিদ বা মন্দির-যেকোনো উপাসনালয়ের শব্দ নিজস্ব প্রাঙ্গণের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, তা বাইরে ছড়ানো যাবে না।”
তিনি জানান, প্রশাসনের নির্দেশনার পর এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে মোট ৫ হাজার ২৯৯টি ধর্মীয় উপসনালয়ের মাইক নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দির রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশকে কোনো ধরনের জোরজুলুম না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং উপাসনালয় কমিটিগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার (৭ আগস্ট) এ সংকট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের তিন বিদ্রোহী সংসদ সদস্য, সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রেখে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে পরিবেশ আইন কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও এ পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
নওশাদ সিদ্দিকী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়ে মাইক খোলার পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত আদেশ রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অনেক মসজিদ কমিটি ইতিমধ্যে নিজেদের উদ্যোগে শব্দের মাত্রা কমিয়ে এনেছে। যারা আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের আইনি নোটিশ না দিয়ে সরাসরি মাইক খুলে ফেলা অনুচিত। এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ অন্যায়ভাবে বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মাইক খুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ সংকটের সম্মানজনক সমাধান না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তবে বিরোধীদের সমালোচনা ও আন্দোলনের হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে সবারই প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা উচিত। এটি কোনো বাবরের শাসন বা তুঘলকি কায়দায় চলা রাজ্য নয় যে আইনের তোয়াক্কা করা হবে না। শুধু নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী রাজনীতি করার দিন শেষ।”










কমেন্ট করুন