Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের গোয়েন্দা নজরে মার্কিন কর্মকর্তারাই, পেন্টাগনে উদ্বেগ তুঙ্গে

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

ইরান প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতভেদ যখন ক্রমশ গভীর হচ্ছে, তখন ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে পেন্টাগনে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। এমনকি শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারাও নিজেরা ইসরায়েলি নজরদারির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।

শনিবার (৬ জুন) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ স্তরে, অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

ইসরায়েল সফরে যাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন বিশেষ সতর্কতা অনুসরণ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্নার ফোন (একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন), সাময়িক কম্পিউটার এবং কঠোর যোগাযোগবিধি এখন তাদের নিয়মিত অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। বিশেষত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হোটেলকক্ষসহ ঝুঁকিপূর্ণ যেকোনো পরিবেশে স্পর্শকাতর আলোচনা থেকে বিরত থাকছেন।

গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডিআইএ একটি সাত পৃষ্ঠার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন নথি প্রস্তুত করেছে। ওই নথিতে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতিসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের তথ্য জানতে ইসরায়েল আগ্রাসী প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এমিলি হার্ডিং বলেন, “ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আমরা অত্যন্ত আগ্রাসী বলে মনে করি। আমরা কী করছি, সে সম্পর্কে তাদের গভীর আগ্রহ রয়েছে।”

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র বলেছেন, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসরায়েল মার্কিন কর্মকর্তাদের বা আমেরিকান কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে না। আমাদের গোয়েন্দা অভিযান শত্রুদের বিরুদ্ধে, মিত্রদের বিরুদ্ধে নয়।” হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে নাকচ করে দিয়েছেন।

এই পরিস্থিতি সামনে এসেছে এমন এক সংকটময় মুহূর্তে, যখন ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানে স্পষ্ট ফাটল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প যেখানে তেহরানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তির পথ খুঁজছেন, সেখানে নেতানিয়াহু ইরানের ওপর আরও জোরালো সামরিক চাপ প্রয়োগের পক্ষে সরব। সম্প্রতি এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে পাগল বলে অভিহিত করেছেন বলেও জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সীমিত পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা একটি পরিচিত বাস্তবতা। কিন্তু বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক সীমাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন