ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
সরকারের মালিকানায় নতুন করে কোনো মিল-কারখানা পরিচালনা বা স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘সরকার ব্যবসার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের হাতেই রাখতে চায়। আপনারা ব্যবসা করবেন, আমরা কেবল আপনাদের পথ সহজ করতে ফ্যাসিলিটেট করব।’
রাজধানীর ফার্মগেটের জুট ডাইভার্সিফিকেশন অ্যান্ড প্রমোশন সেন্টারে গতকাল ‘কর্মসংস্থানে টেকসই উত্তরণ: টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি ও পথচলা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্বাসউদ্দীন শায়ক। প্রবন্ধে ২০৩৩ সাল নাগাদ বৈশ্বিক পোশাক বাজারের আকার আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়। বর্তমানে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ অংশীদারত্ব নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে তৈরি পোশাক খাত থেকে রফতানি আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যার ৫০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে টেক্সটাইল খাতে দক্ষ জনশক্তির সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে, যার ফলে ২০২৫ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে গ্র্যাজুয়েট বের হওয়ার হার আগের বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
তবে প্রবন্ধে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্যও। রফতানি আয় বাড়লেও বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে শ্রমিকপ্রতি বার্ষিক মূল্য সংযোজন মাত্র ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা চীন বা ভিয়েতনামের তুলনায় অনেক কম। ২০৩০ সাল নাগাদ মেশিন-ওরিয়েন্টেড ও টেক-স্পেশালিস্ট উৎপাদনের চাহিদা বহু গুণ বাড়বে। এই রূপান্তর মোকাবেলায় টেক্সটাইল গ্র্যাজুয়েটদের প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি অটোমেশন, ডেটা অ্যানালিটিকস ও টেকসই উৎপাদন-সংক্রান্ত আধুনিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন করা এখন সময়ের দাবি বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।
প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আপনারা (সরকার) এ খাতকে প্রমোট করুন, কিন্তু সরাসরি ব্যবসা করতে যাবেন না। যখনই সরকার ব্যবসায় হাত দেয়, সেই খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা আর ভর্তুকি দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো শেষ পর্যন্ত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা ও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নিজে ব্যবসা করার চেয়ে বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতেই বেশি আগ্রহী। সরকার নীতিসহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে।’ বিদ্যমান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর কারিকুলাম সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আর নতুন করে কোনো টেক্সটাইল কলেজ বা ইনস্টিটিউট আমরা করব না।’
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, ব্লু প্লানেটের নির্বাহী পরিচালক কাজী মাসুম রাশেদসহ ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং টেক্সটাইল খাতের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।










কমেন্ট করুন