ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
চীনের এক ব্যক্তি প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় করে একটি ভবনের ৩৪তম তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। তবে কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, যে ভবনে ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে সেটি আসলে ৩২ তলার। ফলে ফ্ল্যাট পাওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
সোমবার (৮ জুন) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেন নামের ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শিয়ানের কাছাকাছি একটি গ্রামে ৯০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি তথাকথিত ‘গ্রে-মার্কেট’ আবাসন প্রকল্পভিত্তিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
জানা যায়, শেন প্রতি বর্গমিটার দুই হাজার ৬৪৬ ইউয়ান দরে ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেছিলেন, যা ওই অঞ্চলের গড় বাজারদামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। কম মূল্যের পেছনে কারণ ছিল প্রকল্পটির ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ মর্যাদা। সাধারণত এ ধরনের আবাসন রাষ্ট্রীয় শহুরে জমির পরিবর্তে গ্রামীণ সমবায়ী মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রকল্পে সাধারণত সরকারি অনুমোদন থাকে না এবং প্রচলিত আবাসন প্রকল্পের মতো আইনি সুরক্ষাও পাওয়া যায় না। এমনকি আইনগতভাবে এসব সম্পত্তি পুনরায় বিক্রির সুযোগও থাকে না। তারপরও কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা এ ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন।
ফ্ল্যাট কেনার সময় শেন এক লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান অগ্রিম পরিশোধ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছিল যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সনদপত্র পরবর্তীতে সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এ ধরনের প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আইনি নথি অর্জন প্রায় অসম্ভব।
ফ্ল্যাটটি ২০১৫ সালে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণকাজে বিলম্ব ঘটে। পরে ২০১৭ সালে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শেনকে জানায়, নির্মিত ভবনটি মাত্র ৩২ তলা। অর্থাৎ তিনি যে ৩৪তম তলার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তার বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই।
প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠানটি তাকে ৩২তম তলায় বিকল্প একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় দুই মাস পর সেই ফ্ল্যাটও অন্য একজনের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এরপর শেন তার অর্থ ফেরত দাবি করলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে পুরো অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। যদিও তিনি ২০২০ সালে ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান, পরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে শেনের অগ্রিম অর্থের বাকি ৪৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান এবং অতিরিক্ত ২৭ হাজার ইউয়ান পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে আরও ৪৭ হাজার ইউয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
তবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত শেন বকেয়া অর্থ হাতে পাননি। পরে স্থানীয় আদালত ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভোগব্যয়-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো নিবন্ধিত সম্পদ বা সঞ্চয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্ল্যাট কেনার এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শেন এখনও নিজের বাড়ি এবং পূর্ণ ক্ষতিপূরণ—দুটোরই অপেক্ষায় রয়েছেন। ঘটনাটি চীনে আইনি সুরক্ষাবিহীন স্বল্পমূল্যের আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।










কমেন্ট করুন