Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ। ছবি : সংগৃহীত

হাম জয় করেও ডেঙ্গুর কাছে হার, রাজশাহীতে প্রাণ গেল দেড় বছরের তাইবার

রাজশাহী  সংবাদদাতা:

হাম থেকে সেরে উঠে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ মেলেনি দেড় বছরের শিশু তাইবার। এবার ডেঙ্গু কেড়ে নিল তার ছোট্ট প্রাণ। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয় শিশুটির। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইবা ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে জ্বর ও কাশি নিয়ে তাইবাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শরীরে হাম ধরা পড়ে। প্রায় ১২ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে সে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবার জ্বর ও কাশি ফিরে আসে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৯ মে রাতে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তির পরদিনই শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ৩১ মে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ডেঙ্গু। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রামেক হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া প্রথম ডেঙ্গু রোগী ছিল সে-ই।

নিবিড় চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হলে গত বুধবার তাইবাকে সাধারণ ওয়ার্ডে সরিয়ে আনা হয়। পরিবারে তখন স্বস্তির আভাস। কিন্তু সেই আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। আবারও জ্বর ও নানা জটিলতা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে পুনরায় আইসিইউতে নিয়ে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় শিশুটিকে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার সকালে চিরবিদায় নেয় ছোট্ট তাইবা।

মেয়ের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সন্তানের চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করতেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ছোট্ট তাইবা চিরবিদায় নেয়।”

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, “শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল ছিল। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে অল্পসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালুর প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন