Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

মার্কিন ঘাঁটি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ৭০০ লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে ইরান

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন আক্রমণের কঠোর জবাবে এবার নিজেদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা (টার্গেট ব্যাংক) পুনর্নির্ধারণ ও হালনাগাদ করছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি একাধিক বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৭০০টি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেছে তেহরান। ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করে পাল্টা হামলা চালানোর এই উন্মুক্ত হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর দেশের সামরিক বাহিনীকে ‘লক্ষ্যবস্তুর তালিকা’ পরিমার্জনের প্রত্যক্ষ নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য—সকল প্রকার সম্পদই এই আক্রমণের আওতাভুক্ত থাকবে। একই সাথে নতুন যেকোনো আগ্রাসনের জবাব ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাসুল সারদার জানান, ইরানি সামরিক নীতিনির্ধারকেরা এ অঞ্চলে ৭০০টিরও বেশি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করার কথা নিশ্চিত করেছেন, যার মধ্যে মার্কিন বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইরানের এই তীব্র হুঁশিয়ারির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বরং সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের পথ খুঁজছে। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁদের হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সূচনা হওয়ার পর থেকে ইরান ইতোমধ্যে অন্তত আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর, কুয়েত ও জর্ডানের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি এবং ইরাকের এরবিল অন্যতম। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগও রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। বিগত জুলাই মাসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিশ্বখ্যাত অ্যামাজনের কেন্দ্রীয় ডাটা পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবিও করেছিল।
সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরানে কোনো ধরনের আঘাত আনা হলে তার প্রত্ত্যুত্তর ঠিক কবে এবং কোন শর্তে থামবে, সেটি সম্পূর্ণরূপে নির্ধারণ করবে ইরান। এর সহজ অর্থ দাঁড়ায়—যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে কূটনীতির অবশিষ্ট সব দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন