ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
“ঈদ চলে গেল আজ মাসের ১৬ দিন হয়ে গেল, অথচ এখনো মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক মে মাসের বেতন পাননি। এই সংসদে আমাদের অনেকেরই মা নেই, আমার নিজেরও মা নেই মাননীয় স্পিকার। সংসদে আসার সময় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক আমাকে ফোন করে কেঁদে ফেললেন। তিনি টাকার অভাবে তাঁর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না!”
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে এসব কথা বলেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমিন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চলমান অধিবেশনে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বর্তমান বেতন বৈষম্য ও চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যেক মাসের এক-দুই তারিখের মধ্যেই বেতন দেওয়া হয় এবং সেটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু ঈদ পার হয়ে যাওয়ার পরও আজ মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তাদের মে মাসের বেতন পাননি। মে মাসের এই বেতনটা যদি মাসের শুরুতে দেওয়া হতো, তবে এই উৎসবের সময়ে তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারতেন এবং উপকৃত হতেন।
তিনি অত্যন্ত আকুলতার সাথে আরও বলেন, “আমার শেষ কথা হলো—আমার মা যেমন দুনিয়ায় নেই, ওই শিক্ষকের মা-ও হয়তো একদিন থাকবেন না, আমরা কেউই থাকব না। কিন্তু ওই অসহায় শিক্ষক যেন অন্তত এই সান্ত্বনাটুকু নিয়ে বাঁচতে পারেন যে, তিনি তাঁর মায়ের চিকিৎসা করাতে পেরেছিলেন। আমি এই মানবিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং অবহেলিত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন দ্রুত ছাড়ের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
বকেয়া বেতনের দাবির পাশাপাশি তিনি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুত সরকারি করণের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।










কমেন্ট করুন