ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
চলতি জুন মাসেই বাংলাদেশকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিশ্বব্যাংক। তিনটি পৃথক ঋণ কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ ছাড় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলায় এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সহায়তার মধ্যে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার আসবে চলমান প্রকল্প ঋণের অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে। এছাড়া খাদ্য ও সার আমদানির জন্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য আরও ৪০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর কাছে জরুরি বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের বিশেষ র্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ ১২টি প্রকল্প থেকে প্রায় ৭৮৫ মিলিয়ন ডলার পুনর্বিন্যাস করে বাজেট সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করবে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ৩০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে।
ব্যাংকিং খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা বাড়ানো, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ঋণ প্রদানে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা, দেউলিয়াত্ব আইন এবং আমানত সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
এ লক্ষ্যে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট এবং ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্সি অ্যাক্ট নামে দুটি নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আইনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সীমিত কার্যকারিতার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংকের মতে, প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বাড়বে, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।










কমেন্ট করুন