Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

নিম্ন গ্রেডে বেশি বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা, যা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা এবং নিম্ন আয়ের কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় বেশি হতে পারে। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, নতুন পে-স্কেল বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় না থাকলেও আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার আলোকে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই প্রথম ধাপেই কম বেতনভোগীদের জন্য বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বেতন বৃদ্ধি করলে সরকারের পরিচালন ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়বে। কিন্তু একই হারে রাজস্ব আয় বাড়ার নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে উচ্চ বেতনভোগীদের তুলনায় নিম্ন বেতনভোগীদের বেশি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। তবে কী হারে বেতন বাড়বে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনায় নতুন ও বর্তমান বেতন কাঠামোর পার্থক্যের ৫০ শতাংশ করে দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় এবং শেষ বছরে ভাতা সমন্বয়ের কথা ছিল। তবে বর্তমানে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তনের আলোচনা চলছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ প্রথম বছরে পেতে পারেন। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ প্রথম ধাপেই কার্যকর করা হতে পারে।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

বর্তমানে দেশে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত আছেন ১২ লাখ ৬০ হাজার ১১৮ জন।

সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখন বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন