Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

জাতীয় ঐক্য গড়ে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার উদাত্ত আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
৭ নভেম্বরের আদর্শ ধারণ করে দুর্নীতির বিলোপ, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং যাবতীয় চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপ্রধান তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বরের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্রের মূল দর্শন হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশ ও জনগণের মঙ্গল নিশ্চিত করতে জাতীয় স্বার্থরক্ষা, সাম্য, ন্যায্যতা এবং সর্বস্তরে চর্চিত গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের আপামর জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি ১৯৭৫ সালের এই দিনে অংশ নেওয়া সিপাহি-জনতা ও বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তার ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তার ভূমিকা ছিল ত্রাতার।”
সেনাবাহিনী ও জনগণের এই একাত্মতাকে স্বাধীনতার ধারায় অভূতপূর্ব জাগরণ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বাধিকার রক্ষায় অটল ঐক্য প্রদর্শন করেছে। সেই ঐতিহাসিক শক্তির প্রতিফলন ঘটে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ষোলো বছরের একনায়কতন্ত্রের পটপরিবর্তন ঘটে এবং দেশ দাসত্বের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।
বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাণীতে আরও বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্তি দেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন, সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করেন সুশাসন।”
রাষ্ট্রপতি সতর্ক করে বলেন, বারবার স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে এবং দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন চেপে বসেছে। তবে গণমানুষের প্রচেষ্টায় নির্বাচিত সরকারের পরিচালনায় রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হয়েছে। এই অগ্রগতি সুদৃঢ় রাখতে শাসনতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন