Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

চীনে প্রশিক্ষণার্থী বাংলাদেশি কূটনীতিকদের বিদায় সংবর্ধনা দিল দূতাবাস

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
২০২৬ সালের বিশেষ প্রশিক্ষণ সেশনে অংশ নিতে চীন সফরে যাচ্ছেন একদল বাংলাদেশি কূটনীতিক। দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন, পেশাগত দক্ষতা ও কূটনৈতিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি এই কূটনীতিক দলকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসে এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঢাকা-বেইজিং কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং তরুণ কূটনীতিকদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থাবিষয়ক সচিব মো. ফরহাদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত, প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া তরুণ কূটনীতিকবৃন্দ ও চীনা দূতাবাসের বিভিন্ন কর্মকর্তা।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্ক এখন একটি তাৎপর্যপূর্ণ নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ফ্রন্টকে শক্ত ভিত দিতে উদীয়মান বাংলাদেশি কূটনীতিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন রূপরেখা ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করে অর্জিত সেই জ্ঞান দিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সংবর্ধনার প্রধান অতিথি মো. ফরহাদুল ইসলাম এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সুযোগ তৈরির জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্তব্য করেন, তরুণ কর্মকর্তাদের চীন সফর ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দুই দেশের কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এই সফর ও কর্মশালার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা চীনের উন্নয়ন ইতিহাস, পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন বলে তিনি আশাবাদ জানান। পরবর্তীতে এই লব্ধ জ্ঞান দেশের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও জোরদার করার বড় সুযোগ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, চীনের মাটিতে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের এমন প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয় একেবারেই নতুন নয়। এর আগেও চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ পরিচালনায় উদীয়মান কূটনীতিকদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের আয়োজনেও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তরুণ কর্মকর্তাদের চীনের আধুনিকায়ন দেখার পাশাপাশি দুই দেশের সুসম্পর্ক গভীর করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কূটনৈতিক পর্যায়ে এ জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কেবল দক্ষতা বৃদ্ধির পথ দেখায় না; এটি দুটি দেশের প্রাতিষ্ঠানিক মেলবন্ধন ও পারস্পরিক আস্থা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত, আগামী দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চাকা যারা সচল রাখবেন, সেই সব কূটনীতিকদের জন্য চীনের অর্থনীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও কূটনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার বিশাল সুযোগ উন্মোচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ, শিক্ষা ও বহুমুখী উন্নয়ন সহযোগিতায় যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ ও চীন। এমন বাস্তবতায় তরুণ কূটনীতিকদের জন্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির কার্যকর পথ নির্দেশ করে। চীনের বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করা এসব কূটনৈতিক ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ, নীতিনির্ধারণী বিষয় ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন। ফলে এই উদ্যোগটি সাধারণ সফরের সীমানা ছাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলার একটি অনন্য প্রয়াস।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন