Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেড পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দল

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এর আগে প্রতিনিধি দলটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় বেপজা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ইপিজেড পরিদর্শনকালে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আব্দুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোহসীন হাসান এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বেপজার সার্বিক কার্যক্রম, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, রফতানি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা, শ্রমিক কল্যাণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বিষয়ে তাঁদের বিশদ ধারণা দেন।
বাংলাদেশে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার গোড়ার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শিল্পায়ন প্রসার এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বেপজার কাজকে আরও গতিময় করছে। বেপজা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে, রফতানি বাড়াতে, কর্মসংস্থান তৈরিতে, শ্রমিক কল্যাণ এবং শান্তিময় শিল্প পরিবেশ বজায় রাখতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আলোচনাকালে তিনি ইপিজেডের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় বিনিয়োগকারীদের সম্মুখীন হওয়া কাস্টমস-সংক্রান্ত বিবিধ জটিলতা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বন্ডেড শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর অগ্রিম আয়কর চাপানো এবং নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির সুতার ওপর আমদানি শুল্কের প্রভাব সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়। এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে শিল্পকারখানার ধারাবাহিক উৎপাদন ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা এবং প্রস্তাবিত ইপিজেড কাস্টমস বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্ণফুলী ইপিজেড পরিদর্শনকালে নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক তুলে ধরেন যে, চলতি বছরই কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ হলো। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে পরিত্যক্ত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসকে কর্ণফুলী ইপিজেডে রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, গত দুই দশকে এই ইপিজেডের সাফল্য ও অগ্রগতি তারই প্রমাণ দেয়।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম ইপিজেডে অবস্থিত মেসার্স প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড ও মেসার্স তালিসমান পারফরমেন্স লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ইপিজেডে অবস্থিত কেনপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেলস ও পার্ক বাংলাদেশ শিল্পকারখানা ঘুরে দেখেন। তারা কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া, অত্যাধুনিক কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল বেপজার নিয়ন্ত্রণাধীন এসব শিল্পাঞ্চলের পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ, রফতানিমুখী উৎপাদন এবং সার্বিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দেশের রফতানি বৃদ্ধিতে, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিকল্পিত শিল্পায়নে বেপজার প্রশংসনীয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উক্ত পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ নুরজাহান খানম, পরিচালক-১ ফাহমিদ ফারহান এবং চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন