ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ার পর নতুন এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এই আমন্ত্রণের জবাবে নয়াদিল্লি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং অনুষ্ঠানে কাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
আগামী জুলাই মাসে ইরানের মাশহাদে খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনে ভারতের অংশগ্রহণকে কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের বিষয় হিসেবে নয়, বরং ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে চাবাহার বন্দর প্রকল্প, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তেহরান ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে খামেনির শেষকৃত্যে উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হলে সেটিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার বার্তা হিসেবে দেখা হতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, একই সঙ্গে এমন সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন ও তেলআবিবেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে নয়াদিল্লি একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘদিনের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির প্রতিফলন ঘটাবে। একই সঙ্গে এটি স্পষ্ট করবে, প্রতিদ্বন্দ্বী বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নয়াদিল্লি কীভাবে নিজস্ব কূটনৈতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে চায়।
খামেনির শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে










কমেন্ট করুন