Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও এখনও সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত তিন দিন ধরে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়ে দুধকুমার নদের পানি ৪ সেন্টিমিটার কমেছে। অন্যদিকে একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি ২ থেকে ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ নতুন করে জলাবদ্ধতা ও বন্যা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙনও। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার ৩৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যাতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া নদ-নদীর অববাহিকার কিছু পাটক্ষেতে পানি প্রবেশ করেছে, যা স্থায়ী হলে পাটের ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার মাওলানা মাহাবুবার রহমান বলেন, “কয়েকদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বাড়ার কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকিতে থাকা পরিবারগুলো ভিটেবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আমরাও চিন্তিত কখন যে আমাদেরও ভিটেবাড়ি সরাতে হয়। এলাকাটি কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে ভাঙছে, কারও নজর নাই।”

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া এলাকার আমিনা বেগম বলেন, “নদী বাড়ির কাছে আসছে, তাই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছি। কোথায় যাবো জানি না, জায়গা জমি বলতে নাই।”

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী আরও তিন দিন জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।”

ভাঙন রোধের প্রচেষ্টা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ২৫টি স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুমতি না থাকবার কারণে অন্যান্য এলাকাগুলোতে কাজ করা যাচ্ছে না।”

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন