Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

এক ট্রলারেই উঠলো ১০০ মণ ইলিশ, আড়তে বেচাকেনা ৩০ লাখ টাকা

ছবি : সংগৃহীত
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা উপকূল ঘেঁষা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে এক ট্রলারেই ধরা পড়েছে প্রায় ১০০ মণ রুপালি ইলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে বিপুল পরিমাণ এই মাছ নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পৌঁছালে জেলে, আড়তদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে আলীপুরের সিফাত ফিস আড়তে দিনভর হাঁকডাক ও নিলাম শেষে এই মাছগুলো আনুমানিক ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মৎস্য আড়ত সূত্রে প্রকাশ, ‘এফবি আব্দুল্লাহ’ নামের ট্রলারের প্রধান মাঝি বাদশা মিয়া তাঁর অধীনস্থ ১৫ জন জেলেকে সঙ্গী করে মাত্র এক দিন পূর্বে গভীর সাগরে রওয়ানা হন। যাত্রাকালে ট্রলারে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার রসদ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেওয়া হয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে এক দিন অবস্থানের পর পশ্চিমের বয়া সংলগ্ন সীমানায় জাল ফেলতেই তাদের জালে ধরা দেয় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।
গতকাল বুধবার অপরাহ্ণে অর্জিত ইলিশের চালান নিয়ে ট্রলারটি আলীপুর-মহিপুর ঘাটে এসে ভেড়ে। এরপর সিফাত ফিসে আয়োজিত উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ ইলিশ বিক্রি সম্পন্ন হয়। যার সর্বমোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
আনন্দের কথা ব্যক্ত করে ট্রলার মাঝি বাদশা মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে প্রত্যাশিত ইলিশের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না। অকস্মাৎ পশ্চিমের বয়া এলাকায় জাল ফেলার পর বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। তবে ইলিশগুলোর আকার তুলনামূলক কিছুটা ছোট। বিক্রি শেষে মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
সিফাত ফিসের আড়তদার ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, হঠাৎ করেই একটি ট্রলারে ৯০ থেকে ১০০ মণের বিপুল ইলিশ নিয়ে ঘাটে নোঙর করে। দিনজুড়ে ডাক বা নিলামের মাধ্যমে এসব মাছ হাতবদল হয়, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এমন ইলিশের দেখা মিললে ব্যবসায়ীদের পুঞ্জীভূত ঋণ পরিশোধের পথ সুগম হবে এবং পুরো মৎস্য খাতে গতি ফিরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংকট উত্তরণের বিষয়ে কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় সাগরে এতদিন ইলিশের কিছুটা আকাল বিরাজ করছিল। বর্তমানে মৎস্যজীবীদের জালে ভালো পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। আগামীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে ইলিশের এই প্রাপ্তি আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা জেলে ও ব্যবসায়ীসহ এই খাতের সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক মাছের বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গণ্য হয় এই আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর। প্রতিদিন নানা পদের সামুদ্রিক মাছের সমাগম ও বিকিকিনি ঘটে এখানে। অনেক দিন বাদে এক ট্রলারে এমন বাম্পার ইলিশ মেলায় স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। ইলিশের এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে ঘাট ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সূত্র: বাসস

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন