Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে আতঙ্ক, ধস ও প্রাণহানি

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রতিনিয়ত আঘাত হানছে শক্তিশালী একের পর এক ভূমিকম্প। ৭ মাত্রার বেশি মাত্রার এসব ধ্বংসাত্মক ভূকম্পনে বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে বহু আবাসন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত স্থাপত্য। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার সমান্তরালে অনেক জায়গায় দেখা দিয়েছে সুনামির প্রাবল্য।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূকম্পন: সর্বশেষ শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরের আলো ফোটার আগে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার মারাত্মক একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সূত্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনের মৃত্যুর সংবাদ ও বহু হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটার কিছু আগে উৎপত্তি হওয়া এই ভূকম্পনের গভীরতা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এতে মাউমেরে বন্দরের টার্মিনাল ভবন ধসে বেশ কয়েকজন যাত্রী সাগরে পড়ে যান। সুনামির তিন ঘণ্টার সতর্কতা শেষ হলে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসেন।

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ প্রাণহানি: এর পূর্বে গত ১০ আগস্ট কলম্বিয়াজুড়ে ৭.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প তছনছ করে দেয় গোটা জনপদ। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ (ইউএনজিআরডি) জানায়, এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। এতে প্রায় ৭২ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ১২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূকম্পন: গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি পর পর শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ৫ হাজার ৬৯ জনে পৌঁছেছে। উপকূলীয় লা গুয়াইরা প্রদেশটি এতে সর্বাধিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, যেখানে ভূকম্পনের পর ১ হাজার ৩৩১টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়।

জাপান ও ফিলিপাইনে ক্ষয়ক্ষতি: জাপানের কুমামোতো অঞ্চলে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শহরের একটি বিপণিবিতানে বিস্ফোরণ ও ভবন ধসে বেশ কিছু মানুষের প্রাণ যায়। অন্যদিকে চলতি বছরের জুনে ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৯ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন অন্তত ১৩৪ জন।

তুরস্ক-সিরিয়ার সেই দুঃস্বপ্ন: সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইতিবৃত্তে ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক ও সিরিয়ায় ৭.৮ ও ৭.৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প ছিল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা। তুরস্কে ৫৩ হাজার ৫৩৭ জন এবং সিরিয়ায় প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় সেই দুর্যোগ, যা প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে গৃহহীন করে দিয়েছিল।

টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়াই মূল কারণ: বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পৃথিবীর উপরিভাগের টেকটোনিক প্লেটগুলোর পারস্পরিক ঘর্ষণ ও স্থানান্তরের ফলেই এই ভূকম্পনের সৃষ্টি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে জাপানের অবস্থানের ফলে সেখানে ঘনঘন কম্পন তৈরি হয়। শক্তিশালী ভূমিকম্প রোধ করা অসম্ভব হলেও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম সতর্কতা এবং নিয়মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মহড়াই পারে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন