Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

অবসর ও কল্যাণের অর্থ পাচ্ছেন ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী, বিতরণ শুরু শনিবার

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

বছরের পর বছর ধরে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা অর্থের প্রহর গোনা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির সংবাদ এসেছে। আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীর মধ্যে বহুপ্রতিক্ষিত অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ হস্তান্তর প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সুসজ্জিত এক মহাসমাবেশে উক্ত অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শিক্ষা কাঠামোর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিদ্যমান তালিকার মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের আওতায় অর্থ হাতে পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী। অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টের আওতাধীন অর্থের অংশ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী।

ইতিপূর্বে প্রাথমিক খসড়ায় ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীকে এই অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও পরবর্তীতে জমাকৃত আবেদনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজারে উন্নীত করা হয়।

শিক্ষা প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, অবসর সুবিধা খাতে প্রথম কিস্তিতে একেকজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে প্রাপ্ত হবেন। অতঃপর পরবর্তী ধাপগুলোতে তাদের অবশিষ্টাংশ অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টের খাত থেকে প্রথম কিস্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা পাবেন ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এই অর্থ প্রদানের পরও যদি কারও পাওনা বকেয়া থেকে যায়, তাও পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লিয়ার করা হবে।

এর পূর্বে গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সভায় ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ছাড়ের ব্যাপারে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছিল।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আবদুল খালেক সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগৃহীত চাঁদা, ব্যাংকে সঞ্চিত টাকার লভ্যাংশ এবং সরকারি বিশেষ অনুদান ও বন্ড সুবিধার সমন্বয়ে এই অবসর ও কল্যাণ তহবিলের সার্বিক অর্থ সংস্থান করা হয়ে থাকে।

পূর্ববর্তী ২০১৯ সাল অবধি অবসর সুবিধার তহবিল বাবদ মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে নিয়মিত চাঁদা কেটে রাখা হতো।

এর অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রাক্কালে এককালীন ১০০ টাকা করে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, যার মধ্যে ৭০ টাকা সরাসরি অবসর সুবিধা ফান্ডে এবং বাকি ৩০ টাকা কল্যাণ সুবিধা তহবিলে জমা করা হয়।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন