Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

ছত্তিশগড়ে বালু মহালের বিরোধে বিজেপি নেতাসহ ৩ জনকে গাড়িতে পুড়িয়ে হত্যা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক নেতাসহ তিনজনকে একটি গাড়ির ভেতরে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর রাতে কোরিয়া জেলার সোনহাত থানার নওগাইন গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও সাবেক জনপদ পঞ্চায়ত সভাপতি ভারত সিং ওরফে লাল্লা সিং। এছাড়া এই হামলায় বীরেন্দ্র সিং ও নগেন্দ্র সিং নামের আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় ভারত সিং ও তাঁর সহযোগীরা একটি ফরচুনার এসইউভি গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই সময় ওঁত পেতে থাকা হামলাকারীরা একাধিক বড় ট্রাক দিয়ে তাঁদের গাড়িটির সামনে ও পেছনের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। গাড়িটি অবরুদ্ধ করার পর হামলাকারীরা সেটিতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে গাড়ির ভেতরে থাকা তিনজনই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই বর্বরোচিত ঘটনায় মায়াঙ্ক সিং নামের আরও একজন গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিলাসপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও নিহতের স্বজনদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি বালু মহালের ইজারা এবং বালু পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত সিংয়ের পরিবারের সাথে স্থানীয় আরেকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। স্বজনদের দাবি, সেই বিরোধ মীমাংসা করার কথা বলে ডেকে নিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। মূল হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এই জঘন্য অপরাধে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন