ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত চেকপয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি একসঙ্গে করা হয় তাহলে ১৬০ কোটি। দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রুপান্তরিত হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকেও যুক্ত করছি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি নিশ্চিত যে বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন; যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং আমরা যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে যেন সফল হই।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে অচিরেই টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জানা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারত সরকার ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও ব্যারাকপুরের সাবেক এমএলএ, বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ১৮তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ২০২২ সাল থেকে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিনী মৃণাল ত্রিবেদী। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের কারণে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলেও দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি সাবলীল বাংলা বলতে পারেন এবং বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে তার রয়েছে গভীর বোঝাপড়া।
আশির দশকে কংগ্রেসের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে আবারও সংসদ সদস্য হন এবং দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময়ে ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একসময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০১৬ সালের পর থেকে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে।
সবশেষ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাকপুর আসনে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস তাকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠায়। তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন এবং একই বছরের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যোগ দেন।










কমেন্ট করুন