Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

শিশু ফাহিমা ধর্ষণ-হত্যা: চাচা জাকিরসহ তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার এক মাস পাঁচদিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। প্রধান আসামি জাকির হোসেন এবং তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে এই অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে এবং শিশুটির সম্পর্কে চাচা। ঘটনার পরপরই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফায় তাদের বাড়ি ভাঙচুর করে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুদিন পর ৮ মে রাত ৪টার দিকে ফাহিমার লাশ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। লাশ পানিতে ভেসে উঠলে তিনি সেটি তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

গত ১২ মে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয় ফাহিমাকে। সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। সেই সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। প্রথমে মরদেহ ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে লাশ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে গভীর রাতে পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জাকির। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন