Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

আইএইএ বোর্ডে মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা, সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্বাহী বোর্ডের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি। ওই চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তিনটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে ইরানের স্বার্থবিরোধী এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

আইএইএ নির্বাহী বোর্ডের জুন মাসের ত্রৈমাসিক বৈঠকের সময় পাঠানো এই চিঠিতে আরাঘচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং নির্বাহী বোর্ডকে অপব্যবহারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবটিকে তিনি “রাজনৈতিক ও বিদ্বেষপূর্ণ কাজ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত বছর আইএইএর নির্বাহী বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েল ও মার্কিন সরকার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর অবৈধভাবে হামলা চালায়, যার ফলে বিপুল সংখ্যক সাধারণ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইএইএ কি আবারও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়ার একটি হাতিয়ারে পরিণত হতে চলেছে?

আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, খসড়া প্রস্তাবটির প্রধান পৃষ্ঠপোষকই সেই সংকটের মূল উৎস, যারা কিনা এখন সমস্যা সমাধান করার দাবি করছে। গত বছর জুন থেকে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলের অসংখ্য হামলা এবং ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের গুপ্তহত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি এই কর্মকাণ্ডগুলোকে আইএইএর ইতিহাসে নজিরবিহীন আখ্যা দেন। তার মতে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি বাস্তবায়নের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।

বোর্ড অফ গভর্নরসের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সতর্কতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে এই বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে এবং সংস্থাটিকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

চিঠির অন্য অংশে আরাঘচি ২০১৮ সালে জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও অবৈধ প্রত্যাহারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এবং আইএইএর নজরদারিতে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলাকে তিনি ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি সুস্পষ্ট অবজ্ঞার লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। বোর্ড সদস্যদের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, আইএইএ বোর্ড অফ গভর্নরসের ত্রৈমাসিক সভায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একটি নতুন খসড়া প্রস্তাব বোর্ড সদস্যদের বিবেচনার জন্য জমা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই ইরান এই প্রতিক্রিয়া জানাল।

সূত্র: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন