ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শত শত মানুষ। হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ‘ফ্রেন্ডস অব প্যালেস্টাইন’-এর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে স্লোগান দিতে দিতে ম্যানচেস্টারের রাস্তায় মিছিল করছেন। তাদের হাতে ছিল ‘ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাও’ লেখা একটি বড় ব্যানার।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে লন্ডনে প্রায় ৮০,০০০ মানুষ দুটি বড় পরস্পর-বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেন। একটি বিক্ষোভে কিছু প্রতিবাদকারী উইনস্টন চার্চিলের মূর্তির ওপর উঠে ফ্লেয়ার জ্বালান।
ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক এমপি ডায়ান অ্যাবট বলেন, এসব আন্দোলন “ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন ধরণের পরিবর্তনের পথ তৈরি করছে।” তিনি আরও বলেন, এসব আন্দোলন “গণহত্যার বিরোধিতা করে” রাজনৈতিক প্রভাব ফেলছে এবং তারা “অত্যন্ত ডানপন্থী, বর্ণবাদী ও ইহুদি-বিদ্বেষী শক্তির বিরুদ্ধে” একসাথে লড়ছে। প্রতিবাদকারীদের একটি “সাধারণ শত্রুর” বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং ঘৃণা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, কট্টর ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত ১১ জন বিদেশিকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে বিভিন্ন ইউরোপীয় রাজনীতিক ও কর্মী রয়েছেন।
এবারই প্রথম নতুন বিক্ষোভ-নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় উসকানিমূলক বা ঘৃণামূলক বক্তব্য দিলে আয়োজক ও বক্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিধান কার্যকর হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছরের কারাদণ্ড।
লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি (ফেস রিকগনিশন) ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো নিরাপত্তা অভিযানে হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যার মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। পুলিশ একে ‘অভূতপূর্ব’ নিরাপত্তা অভিযান বলে উল্লেখ করেছে। একই দিনে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির এফএ কাপ ফাইনাল থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
এদিকে পশ্চিম তীর ও গাজায় আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইল। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৫১ জন নিহত এবং ২ হাজার ৯৮৪ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৭৮২ জনের মরদেহ।
সূত্র: আল-জাজিরা










কমেন্ট করুন