Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: ঢাবি শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী তিন দিনের রিমান্ডে

ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (৩ মে) রিমান্ড শুনানি সম্পন্ন হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। জানা গেছে, এর আগে গত ২৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আসামির সরাসরি উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৩ মে তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

রোববার শুনানির দিন কারাগার থেকে সুদীপ চক্রবর্তীকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফুল মোহাম্মদ ও অ্যাডভোকেট আবু সায়েম রিমান্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে জামিনের আবেদন করেন এবং প্রয়োজন হলে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তাব দেন। পক্ষান্তরে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন সর্বোচ্চ মেয়াদের রিমান্ড মঞ্জুরের জন্য জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে শেষ পর্যন্ত আদালত ঢাবির এই শিক্ষকের তিন দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন।

নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি। গত ২৬ এপ্রিল সকালে ওই বাসার নিজ কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করে।

চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…।’ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিরকুটে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে।

চিরকুট হাতে পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একই দিন দুপুরে নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। সে দিন আসামিপক্ষ জামিন চাইলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে সুদীপকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ড শেষে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারিত হবে বলে প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে।

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন