ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এতে সই করেছেন। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধে এই সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন। দুই পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উভয় দেশের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে সই করেছেন এবং এটি ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএকে বাঘাই বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চুক্তির বাস্তবায়ন পরীক্ষা করার সময়।’
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের (১৭ জুন) এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক তৎপরতা স্থগিত হওয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে। উভয় পক্ষ যেহেতু ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে সই করেছে, তাই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না বলে জানিয়েছেন বাঘাই।
তবে দুই দেশের আলোচক দল এখনও জেনেভা সফরের পরিকল্পনা বহাল রেখেছে। মুখোমুখি বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আপাতত এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যালয় এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ না করলেও আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হান্না জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দিনের শুরুতেই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে হান্নার মতে, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কট্টর ডানপন্থি মহল থেকে চাপ ছিল।
তিনি বলেন, ‘এমওইউয়ের যেসব বিষয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এমনকি কিছু রিপাবলিকানও মনে করছেন, ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।’
মাইক হান্না আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়; বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি ভিত্তি। তার ভাষায়, ‘প্রশাসন আমেরিকান জনগণ ও রাজনীতিকদের বোঝাতে চেষ্টা করছে যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় নয়।’










কমেন্ট করুন