ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে “একটি অনন্য উদ্যোগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে আমি বিশ্বের সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
শান্তিরক্ষা অভিযানে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের অবদান স্মরণ করছি। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় দিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন। তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।”
নারী শান্তিরক্ষীদের অর্জন নিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন। এটি নারীর ক্ষমতায়ন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।”
ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে।”
সবশেষে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন, আমরা সবাই শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধ ধারণ করে একটি উন্নত ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনে একযোগে কাজ করি।”










কমেন্ট করুন