Dhaka Orthoniti | ঢাকা অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদ রোধে সরকার ও বিরোধী দলের জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা অর্থনীতি ডেস্ক:

বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এই প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আর যাতে এই প্রিয় মাতৃভূমি তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে—এই প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই জাতীয় ঐক্য অটুট এবং বজায় থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”

বুধবার (১৫ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদীয় রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের রীতি অনুযায়ী সারা বিশ্বে যেটি প্র্যাকটিস, সেই অনুযায়ী অবশ্যই আমাদের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকবে। তবে অবশ্যই শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা।”

দুর্নীতি দমনকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির মাধ্যমে স্বৈরাচারের সময়ে প্রতিবছর এ দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করে দেওয়া হয়েছে। সব সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে এই দুর্নীতি। যেকোনোভাবে হোক সেই দুর্নীতি হাত বেঁধে হোক, আর টুঁটি চেপে ধরে হোক, তা নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।”

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভাষণে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব সুবিধা নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের করুণা নয়, বরং জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “ঋণ নির্ভর নয়, আমরা বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি হবে আমাদের মূল চালিকা শক্তি। বর্তমান সরকার এমনভাবে পরিকল্পনা করেছে, যার মাধ্যমে ২০৩৪ সালে আমরা ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির কাছাকাছি চলে যেতে পারি।”

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের তরুণরা উদ্যমী, আমাদের কৃষকরা পরিশ্রমী ও উৎপাদনশীল। আমরা যদি ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা দূর করতে পারি, দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারি, তাহলেই আমরা শহীদদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যারা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর আমাদের সরকার বাস্তবায়ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

গত ৭ জুন শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন আজ সমাপ্ত হয়েছে।

সূত্র: বাসস

ঢাকা অর্থনীতি

কমেন্ট করুন